অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত চসিক নির্বাচন; নিয়োগ হচ্ছে প্রশাসক

ছবি: সংগৃহিত

করোনা ভাইরাসের কারণে স্থগিত থাকা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে করতে পারছেনা নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তের কথা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠিতে জানানো হয়েছে। ফলে আগামী ৫ আগস্টের পর নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার পথেই হাটছে সরকার।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থগিত থাকা চসিক নির্বাচন করতে পারবে না বলে মতামত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাই বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কমিশনের উপ-সচিব আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিতimageভোট করতে না পারার সিদ্ধান্তের একটি চিঠি মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে পাঠানো হয়েছে।

এতে করোনাভাইরাস মহামারীর পাশাপাশি অতি বর্ষণ ও পাহাড় ধসের শঙ্কায় ৫ অগাস্টের মধ্যে আটকে থাকা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভোট করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

যদিও গত ২৯ মার্চ এ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে ২১ মার্চ নির্বাচন স্থগিত করা হয়। মনোনয়ন বঞ্চিত বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির দায়িত্ব নিয়েছিলেন ২০১৫ সালে ৬ অগাস্ট। সে হিসেবে এ কপোরেশনের মেয়াদ শেষ হবে ৫ অগাস্ট।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনে প্রশাসক নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে সে অনুযায়ী এ করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। এখনও মেয়াদ শেষ হতে সময় রয়েছে। যথাসময়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে করপোরেশন ভেঙে যাবে। এক্ষেত্রে ওই করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে।

আইনে বলা আছে, কোনও নতুন সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করা হলে, অথবা কোনও সিটি করপোরেশন বিভক্ত করা হলে, অথবা কোনও সিটি করপোরেশন মেয়াদোত্তীর্ণ হলে সরকার সিটি করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তার কার্যাবলি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে একজন উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করতে পারবে।

এবার স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের এম রেজাউল করিম চৌধুরী, বিএনপির শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন, পিপলস পার্টির আবুল মনজুর, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জান্নাতুল ইসলাম। নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ২৬৯ জন প্রার্থী রয়েছেন।

আরও পড়ুন: যশোরে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিজয়

তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ছিল ২৭ ফেব্রুয়ারি, মনোনয়নপত্র বাছাই হয়েছে ১ মার্চ। আপিল ২ থেকে ৪ মার্চ, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৮ মার্চ। আর প্রতীক বরাদ্দ হয় ৯ মার্চ। ভোটগ্রহণের কথা ছিল ২৯ মার্চ। তবে ভোটারসহ প্রতিদ্বন্দ্বী ৬ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম বাদে অন্য পাঁচ প্রার্থী একযোগে নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানিয়েছিলেন। পরে সমালোচনার মুখে নির্বাচন স্থগিত করতে বাধ্য হয় নির্বাচন কমিশন।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করেছিল ইসি। এ সিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ৫ আগস্ট। বর্তমান মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

রিজেন্ট হাসপাতাল কেলেঙ্কারি: সাহেদ গ্রেফতার

বুধ জুলা ১৫ , ২০২০
করোনা পরীক্ষায় প্রতারণার মামলায় বহুল আলোচিত বেসরকারি রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে ভারতে পালানোর সময় বোরখা পরিহিত অবস্থায় গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর সাড়ে পাঁচটায় সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে অবৈধ অস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‍্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ গণমাধ্যমে এ […]