ইঁদুরের জমানো ধানে ভাগ বসাচ্ছে তারা! ওরা ধান কুড়ানির দল

ইঁদুরের

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে ঝরেপড়া ধান কুড়ানো ও ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান বের করার কাজে ব্যস্ততায় দিন অতিবাহিত করছেন হতদরিদ্র পরিবারের নানা বয়সী মানুষ ও শিশুরা।

যাদের নিজস্ব জমি নেই কিংবা কোনো জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেননি তারাই এসব ধান কুড়িয়ে তাদের শখ বা আশা পূরণ করে থাকেন।

কারও হাতে খুন্তি-কোদাল, কারও হাতে ব্যাগ। সদ্য ফসল সাফ হওয়া ক্ষেতে অনুসন্ধিৎসু চোখ খুঁজে ফিরছে ইঁদুরের গর্ত। সেখানে ইঁদুরের জমানো ধানে ভাগ বসাচ্ছে তারা। ক্ষেতে পড়ে থাকে ধানের শিষের মালিকানাও তাদের। এ দৃশ্য গ্রামের পর গ্রাম জুড়ে। প্রতিদিনই ধান কুড়ানি শিশুরা দল বেঁধে ছুটে যায় ফসলের মাঠে। এমন এক দলের ব্যস্ত শিশু রুবেল ও পারুল। দূর থেকেই সতর্ক দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে আর ধানের শিষ তুলছে। যেন দম ফেলার ফুসরত নেই।

তাদের সাড়া গায়ে লেগে আছে ছোপ ছোপ কাঁদামাটির দাগ, সেদিকে কে তাকায়! এমন চিত্র এখন উপকূলীয় পটুয়াখালীর কলাপাড়ার বিস্তীর্ন মাঠ জুড়ে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, স্কুল ছুটি হলে ছোট ছোট শিশুরা হাতে ডালা, চালুন, খুন্তি, কোদাল ও ব্যাগ নিয়ে নেমে পড়ছে মাঠে।

ইঁদুরের গর্ত খুড়ে বের করে আনছে তাদের মজুদ করা ধান। কেউ আবার পরিত্যক্ত ক্ষেতের নাড়ার সঙ্গে থাকা ধান কুড়াচ্ছে। সংগৃহীত এ ধান একসঙ্গে বিক্রি করে কেউ কিনবে নতুন জামা, কেউ নতুন বই। কেউবা আবার ধান বিক্রি করে সঙ্গে সঙ্গে ফেরিওয়ালার কাছ থেকে মিঠাই-মন্ডাসহ বাহারি খাদ্য কিংবা হরেক রকম সামগ্রী কিনছে।

ধান কুড়ানি শিশুদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাঠের ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার পর অনেক ধানের শিষ এমনিতেই পড়ে থাকে। সেগুলো কুড়ানো হয়। এছাড়া ইঁদুরের গর্ত খুঁড়লে পাওয়া যায় ধান। এক পর্যায় শিশু রুবেল জানায়, স্কুল ছুটি হলেই ধান কুড়াতে মাঠে চলে যাই। এই ধান কুড়িয়ে আমরা এক জায়গায় জমা করি। যখন পরিমাণে বেশি হবে তখন তা বিক্রি করব।

কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, স্কুল ছুটি হলেই ছোট ছোট শিশুরা মাঠে চলে আসে। আমাদের ধান কাটার পরে নাড়ার সাথে দুই এক গোছা ধান থাকলে সেগুলো তারা কুড়িয়ে নেয়। এছাড়া গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের বউ-ঝি এবং ছেলেমেয়েরা দল বেঁধে ধান কুড়িয়ে নিচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দা সিফাত জাহান জানান, কৃষকরা ধান কাটার সময় দুই একাটা ধানের ছড়া ক্ষেতে পড়ে থাকে। ওই ধানের ছড়া এলাকার দরিদ্র শ্রেণির শিশুরা কুড়িয়ে নেয়। এছাড়া অনেক শিশুরা ক্ষেতে ইঁদুরের গর্তে হাত দেয়। এটা নিরাপদ নয়। গর্তে সাপ থাকতে পারে। তবে আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষকরা ক্ষেতের ধান কাটলে মাঠে ধান পড়ে থাকবে না। এতে কৃষকরাও উপকৃত হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

Spread the love

হাসানুজ্জামান হাসান, লালমনিরহাট প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Next Post

রবির ডাটা প্যাকে এখনও মেলেনি জবির অনুদান

সোম নভে ২৩ , ২০২০
মহামারি করোনায় অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের রবির ডাটা প্যাকে অনুদান দেবার কথা থাকলেও এখনও মেলেনি অনুদান। রেজিস্ট্রেশন ও ব্যবহারের শর্তাবলী সাপেক্ষে ১৯৯ টাকার ৩০ জিবি ডাটা প্যাকেজের মধ্যে- শিক্ষার্থীরা ৯৯ টাকা প্রদান করবে এবং বাকী ১০০ টাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রবি’কে সরাসরি প্রদান করবে বলে […]
অনুদান