এই হেমন্তের শুরুতে বর্ষার আমেজ, শীতের আগমনী বার্তা তোমার অনুপস্থিতির-ই জানান দিচ্ছে! প্রকৃতি ঠিক বুঝে নিয়েছে, তুমি পাশে নেই।   এক অসুস্থ পৃথিবী, আমাদের পৃথিবী আলাদা করেছে! আবার নিষ্ঠুর প্রকৃতি, তোমার শূন্যতা মনে করিয়ে দিচ্ছে , আচ্ছা, তুমিও কী শূন্যতা অনুভব করছো?   আমাদের এ শূন্যতার সমাপ্তি ঘটবে একদিন, […]

‘ইচ্ছে’ একটা দিন ছুটন্ত সরীসৃপের মাথায় চড়ার লোভ নিয়ে পড়িমড়ি করে প্লাটফর্ম ছেড়ে যাওয়া ট্রেন ধরার জন্য, তোমার হাত টেনে আলটপকা দৌড়াতে ইচ্ছে হয়। তারপর কবজি-কনুই ভাসিয়ে দু টাকার কুলফি আর তোমার বকাবকি- দুটোই খাবো। ♦ ‘আক্ষেপ’ হাইপার টেনশনে আমি যখন পায়চারি করবো, তুমি কোলে নিয়ে আমাকে শূন্যে আছড়ে ফেলো! […]

উড়ন্ত পালে হাওয়া দেয় তোমার দীর্ঘশ্বাস, আর আমার চোখে বাঁধা ঠুলির নাম দিয়েছি  ‘কানামাছির আয়োজন’!’ সরস এ ছলনায় কতখানি ভান আর কতখানি আশা? শূন্যতার অবয়বে স্রষ্টা যে পাথর তৈরি করেছেন, আমাদের নরম বুক কেটে বসে যাচ্ছে তার ওজন। এ সময়ের স্বাক্ষর হয়ে রয়ে যাচ্ছে- অতল ক্ষতের দাগ। ঝড়-জল-রৌদ্র গায়ে মেখে […]

আমি চাই, আমার উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ- তোমার অন্তরে ঢেউ তুলুক। আমার লেখা প্রতিটি কথা তোমার হৃদয় ছুঁয়ে যাক। আমাদের কিছু খুঁনসুটির গল্প আজন্ম তোমার অন্তরে গাঁথা থাক।   আমি চাই, ভুল করে ছুঁয়ে দিতে তোমার চুল-বেণী। খুব আনমনে তোমার কেঁপে ওঠা  চোখে তাকিয়ে- কেটে যাক আমার সহস্র শতাব্দী। আমি চাই, […]

তুমি যতটা গিয়েছো সরে ততটা এসেছি কাছে, এত কাছে যে যেখান থেকে হৃৎস্পন্দন শুনতে পাই – যতটা করেছো অবহেলার অবজ্ঞা ততটা হয়েছি পোলিশ, মসৃণতা বাড়িয়েছি নিজে দমধরা  জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে – যতবার তুমি আমাকে ছেড়ে গেছ ততবারই আমি এসে দাড়িঁয়েছি, শক্ত করে তোমাকে আলিঙ্গন করেছি, ভুলে গেছি ছেড়ে যাওয়ার আমন্ত্রণ […]

পুরো দিনটি হতে পারতো এক ঝলমলে কবিতা! অথচ দিনশেষে পড়ে রয়েছে একটি ভাঙা চুড়ি। চুড়ির ভাঙা প্রান্ত গেঁথে রয়েছে সব আনন্দের শিয়রে হে না-দেখা প্রেমিক! সমস্ত পৃথিবীর সব ঐশ্বর্যকে- হারিয়ে ফেলা চুড়ির বিপরীতে দাঁড় করাও। আমি তবু বলেই যাবো- “নীল চুড়ি এগারোটি। কখনো বারোটি হবে না।”

তোমাকে স্বেচ্ছায় যেতে দিলাম- নিজের নাম দিয়েছি তাই আত্নবিনাশী। যখন তুমি ছিলে, তখনও আমার ইনবক্স ভর্তি ছিল নিঃসঙ্গতা। নিঃসঙ্গতাই তো আমার আজন্ম সাথি! এখন আমার এই বদ্ধ ঘর আর গ্যালারি ভর্তি তুমি। তোমাকে স্বেচ্ছায় যেতে দিলাম- কিন্তু কথা রয়ে গেল বাকি। তাই শব্দের প্লাবনে ভেসে, অচেনা ঢেউ হয়ে খুব একা […]

ভুলভাল অগোছালো মানুষটা অন্ধকারের বৃষ্টিতে আলোর ছাতা নিয়ে এসেছিল, আমি তাকে দূরের তারা ভেবে কাটিয়ে দিতে পারতাম কয়েক শত শতাব্দী, দূরে থাকা ভালোবাসা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর কবিতা। সে কাঁধে করে নিয়ে এসেছে পুরোনো ভাঙা এক ভায়োলিন, থেকে থেকে বাজাচ্ছে ঝরঝরে অথচ বিষণ্ন এক সুর, বিষণ্ন সুরেও আমি দুয়েক পাক নেচে […]

শহরজুড়ে শীত নেমেছে, কৃষকের ঘরে নতুন ধানের উৎসব। আকাশে আঁধো পূর্ণিমার আধপোড়া চাঁদ! বাতাসে বাতাসে ভেসে আসে- তরতাজা শিউলি আর রাত জাগা শেয়ালের চিৎকার।   মাথার উপর দিয়ে পতপত করে উড়ে যায়, নিশাচর বাঁদুর আর ভয়ানক পেঁচা।   মাঝরাত! ঘরে বাজছে, হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার মনমুগ্ধকর বাঁশিতে শীব-রঞ্জনী। বাতাস থমকে আছে। বাড়ির […]

একটু জলে উষ্ণতা দিলে উত্তাপে চামড়ার আস্তরে ফোসকা পড়ে – শিশিরের জল মিলিয়ে যায় সূর্যের আগমনী গানে- চাঁদের আলো পড়ে কুয়োর জলে, তবে কি এতোলবিতোল খেলা? জলের উপর চাপিয়ে কিছু জলও চড়ে অন্যের উপর- বৃষ্টি নামে বুকের মধ্যে, জলের নামে দিব্যি কাটে- ভালোবাসায়, বিরহে, তিল পরিমাণ জল কি থাকে না […]