দুই বার ফেল করার পরও যে পদ পেয়েছেন আমি হলে নিতাম না : চীফ হুইপ

 

বিভিন্ন সময় মাদারীপুরের শিবচরসহ চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীকে নিয়ে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান কাজী জাফর উল্লাহ্ বিভিন্ন বক্তব্যকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তকর ও ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে এই প্রথম তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী। রবিবার মাদারীপুর-১(শিবচর) আসনে নির্বাচনী জনসভায় নিলখীতে চীফ হুইপ এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এদিন তিনি নিলখী ও শিরুয়াইল ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে জনসংযোগ পথসভা ও জনসভায় অংশ নিয়ে ভোটারদের প্রতি ভোট প্রার্থনা করেন। এসময় মাদারীপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরী, শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আ: লতিফ মোল্লাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নের্তৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, শিবচরের যে সুনাম এটা অনেক কষ্টে আমরা অর্জন করেছি যেটা গতকালকে(কালকিনির জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শিবচরকে চীফ হুইপ স্বর্গ রাজ্য বানিয়েছেন বলে প্রশংসা করেন) প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। কিন্তু আমি দেখতে পাচ্ছি আমার পার্শবর্তী এক থানার একজন কথায় কথায় শিবচর নিয়ে কথা বলে। আমাদেরকে নিয়ে সমালোচনা করে। বলে শিবচরের সব মস্তান, শিবচরে এটা হয় না, ওটা হয়না। আমি মনে করি এইটার একটা প্রতিবাদ আমার করার দরকার। কারন শিবচরের যেই অর্জন যেটা প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত স্বীকার করেছে, যেখানে বিরোধী দলের নেতারা স্বীকার করেছে কিন্তু অন্য কেউ আমাদের এই সুনাম ধ্বংশ করবে, আমাদের বদনাম করবে এইটার পিছনে একটা চক্রান্ত আছে।

চীফ হুইপ বলেন, আপনি(আওয়ামীলীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো চেয়ারম্যান কাজী জাফর উল্লাহ) দুই বার ফেল করছেন। সামনে ৩বার না ৪বার ফেল করবেন এইটা আমার দেখার ব্যাপার না। আপনি কয়বার ফেল করবেন এটা আপনার ব্যাপার। ২বার ফেল করার পরও আপনাকে অনেক বড় চেয়ারে দিয়েছে। আপনার জায়গায় আমি থাকলে আমি এই পোস্ট নিতাম না। বলতাম আমি নিজে নির্বাচিত হতে পারি না। আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েন না। সারাদেশকে নিয়ে নির্বাচনে এই ঝূকি আমি নিতে পারি না। শিবচরের নেতৃত্ব নিয়ে আপনি কথা বলেন। শিবচর থেকে এর আগেও পীর দুদু মিয়া, বাদশা মিয়া, অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনসহ অনেকেই ফরিদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে এমপি, এমএলএ হয়েছেন। এখনো ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে শিবচরের মানুষ নেতৃত্ব দেয়। শিবচরের মানুষ পারে।

চীফ হুইপ এসময় আরো বলেন, আপনার ভাগ্য ভাল আপনি ওইখানে নমিনেশন পেয়েছেন। শিবচরে হলে আপনি ইউপি চেয়ারম্যানের মনোনয়নও পেতেন না। আমাদের কাছে মনোনয়ন চাইলে আমরা আপনাকে চেয়ারম্যান হওয়ার মনোনয়নও দিতাম না। এই যোগ্যতাও আপনার নেই।

নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, পাকিস্তান আমলে হঠ্যাৎ করে অনেকে কিভাবে জাহাজের মালিক হয়েছিল আমার জানা নেই। শোনা যায় এরা টেকেরহাটে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর খাদ্য সরবরাহ করতো। শোনা যায় উনি(আওয়ামীলীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো চেয়ারম্যান কাজী জাফর উল্লাহ্) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় আইয়ুব খানের ছাত্র সংগঠন করতেন।

উল্লেখ্য, ফরিদপুর-৪ আসন থেকে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার, আওয়ামীলীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান কাজী জাফর উল্লাহ্। গত ২টি সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে বিজয়ী হন চীফ হুইপের ছোট ভাই যুবলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার মুজিবর রহমান নিক্সন চৌধুরী।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *